হোটেল (Hotel) কাকে বলে?
হোটেল শব্দটি ফ্রেন্স হো-টেল্ শব্দ থেকে উদ্ভূদ। যার বাংলা শাব্দিক অর্থ আতিথ্যকর্তা। সাধারণত যে প্রতিষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে থাকা ও খাওয়া, পানীয় ও আনন্দ-বিনোদনের সু-ব্যবস্থা থাকে তাকে হোটেল বলে। হোটেলকে বাংলায় পান্থশালা বা উওরণশালা বলে। অধিকাংশ মানুষ তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, পারিবারিক ভ্রমণ, আনন্দ ভ্রমণ, অবসরকালীন বিনোদন, চিকিৎসা, খেলার জন্য তাদের বাড়ি থেকে অন্য জায়গায় গমন করে এবং রাত্রি যাপন করে। এই রাত্রি যাপনের জন্যই হোটেলের উৎপত্তি।
ব্যাপক অর্থে হোটেল বলতে আমরা বুঝি এমন একটি বাণিজ্যিক অতিথি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, যেটি বিভিন্ন সমন্বয়ে তাদের সেবা বা পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে।
হোটেলের মূল উদ্দেশ্য কি?
হোটেলের মূল উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্যিকভাবে তার গ্রাহকদের বা ক্রেতাদের থাকার জায়গা, খাদ্য, পানীয় এবং আনন্দ-বিনোদন প্রদান করা। কারণ উনি বা উনারা আমাদের অতিথি এবং আমরা চাই উনি বা উনারা আমাদের হোটেলে থাকা উপভোগ করুক এবং আবারও ফিরে আসুক।
হোটেলের শ্রেণীবিভাগ (Hotel Classification):
বর্তমান যুগে গ্রাহকদের রাত্রি যাপনের জন্য বিভিন্ন ধরনের হোটেলের ব্যবস্থা আছে। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উপর ভিত্তি করে বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের হোটেল দেখা যায়-
- বাণিজ্যিক হোটেল (Commercial Hotel) - ব্যবসায়িক লোকজন যারা রাত্রিযাপন, ব্যবসায়িক সেমিনার, ব্যবসায়িক সভার কাজ এই ধরণের হোটেলে করে থাকে। এ ধরণের হোটেল সাধারণত বিভাগীয় শহর, রাজধানী কেন্দ্রীক হয়।
- ট্রান্জিট হোটেল (Transit Hotel) -সাধারণত কোন বিমানবন্দরের নিকটর্বতী হয়। লোকজন এখানে
- বিমানে কোন যায়গায় যাওয়ার আগে অথবা পরে অথবা কোথাও যাওয়ার জন্য এখানে অপেক্ষা করে।
- আবাসিক হোটেল (Residential Hotel) - সাধারণত অল্প খরচে দীর্ঘ সময় ধরে থাকার আবাসস্থল।
- রির্সোট হোটেল ( Resort Hotel) - মূলত অবকাশ কেন্দ্রীক। কোন নদী, সাগর, হ্রদ অথবা পাহাড়ের নিকটর্বতী অবস্থিত হয়। এই সব রির্সোটের নিজস্ব আনন্দ-বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে।
- মোটেল (Motel) - সাধারণত কোন বড় রাস্তার পার্শ্বে, যেখানে গাড়ি র্পাকিংয়ের সু-ব্যবস্থা, পেট্রোল পাম্প, রাত্রিযাপনের সু-ব্যবস্থা আছে সেখানে গড়ে উঠে।
- বোটেল (Boatel -এমন এক ধরণের নৌকা যা হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বোটেল ছোট বা বড় হতে পারে। এটি সাধারণত অতিথিদের ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- ফ্লোটেল (Flotel) -পোতাশ্রয় বা নদীতে ভাসমান হোটেল। এটি সাধারণত সমুদ্র থেকে দূরবর্তী তেল কোম্পানীতে কাজ করা মানুষদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এপার্ট হোটেল (Apart Hotel) - এই ধরণের এপার্টমেন্ট হোটেলগুলোতে হোটেলের মতো সুযোগ-সুবিধাসহ নিজ তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয়। এই সব এপার্টমেন্টগুলোতে নিজস্ব রান্নার সু-ব্যবস্থা থাকে।
- গেষ্ট হাউজ (Guest House) - সাধারণত অল্প খরচের হোটেলের মতো পারিবারিক আবাসস্থল। এইখানে হোটেলের মতো সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না।
- কটেজ (Cottage)- সাধারণত পারিবারিক আবাসস্থল। পরিবারের লোকজন একত্রে থাকার জন্য এই ধরণের কটেজ ব্যবহৃত হয়।
হোটেলের আকার-আয়তন বিবেচনা করে হোটেলকে আবার বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। যথাঃ
- ছোট হোটেল- সর্বোচ্চ ২৫ কক্ষ বিশিষ্ট ।
- মাঝারি হোটেল- ২৫ থেকে ৯৯ কক্ষ বিশিষ্ট।
- বড় হোটেল- ১০০ থেকে ২৯৯ কক্ষ বিশিষ্ট।
- অতি বড় হোটেল- ৩০০ থেকে অসীম কক্ষ বিশিষ্ট।
হোটেলের সেবার মান বিবেচনা করে হোটেলকে আবার বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। যথাঃ
- আর্ন্তজাতিক মানের হোটেল
- মধ্যম সারির হোটেল
- সস্তা মানের হোটেল
হোটেলের মালিকানা বিবেচনা করে হোটেলকে আবার বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। যথাঃ
- একক মালিকানা হোটেল
- যৌথ মালিকানা হোটেল
- ব্যবস্থাপনা চুক্তি হোটেল
- লিজ মালিকানা হোটেল
- চেইন মালিকানা হোটেল (একই মালিকানায় একজাতীয় বহুসংখ্যক হোটেলের মধ্যে একটি।)
হোটেলের পরিচালনার সময়ের দীর্ঘতা বিবেচনা করে হোটেলকে আবার বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
- মৌসুম মাফিক পরিচালিত হোটেল
- সারা বৎসরব্যাপী পরিচালিত হোটেল
হোটেলের মান (পরিচ্ছন্নতা, বেডরুম, বাথরুম, সার্ভিস ও দক্ষতা, খাদ্যের মান, সেবাপরায়ণতা ও বন্ধুপরায়ণতা, ডাইনিং রুম ও রেষ্টুরেন্ট, আনন্দ-বিনোদনের ব্যবস্থা, পাবলিক এরিয়া ও বাহ্যিক চেহারা।) বিবেচনা করে হোটেলকে আবার বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। যথাঃ
- এক তারকা মানের হোটেল (One Star Hotel) - গড়পড়তা হোটেলের মধ্যে ভাল মানের
- দুই তারকা মানের হোটেল (Two Star Hotel) - খুবই ভাল মানের হোটেল
- তিন তারকা মানের হোটেল (Three Star Hotel) - চমৎকার মানের হোটেল
- চার তারকা মানের হোটেল (Four Star Hotel.) - বিশিষ্ট্যমানের হোটেল
- পাঁচ তারকা মানের হোটেল (Five Star Hotel) - দেশের মধ্যে অন্যতম সেরা হোটেল
হোটেলের মান বিবেচনায় তারকা মানের হোটেলের বেডরুম ও বাথরুমের এরিয়া বা সাইজ বিভিন্ন ধরণের হয়। যেমনঃ
পাচঁ তারকা মানের হোটেল--(সম্পূর্ণ শীত তাপ নিয়ন্ত্রিত)
- সিঙ্গেল রুম- ১৮০ স্কয়ার ফুট
- ডাবল রুম- ২০০ স্কয়ার ফুট
- বাথরুম- ৪৫ স্কয়ার ফুট
চার/তিন তারকা মানের হোটেল--(সম্পূর্ণ শীত তাপ নিয়ন্ত্রিত বা নিয়ন্ত্রিত নয়)
- সিঙ্গেল রুম- ১২০ স্কয়ার ফুট
- ডাবল রুম- ১৪০ স্কয়ার ফুট
- বাথরুম- ৩৬ স্কয়ার ফুট
দুই/এক তারকা মানের হোটেল--(সম্পূর্ণ শীত তাপ নিয়ন্ত্রিত বা নিয়ন্ত্রিত নয়)
- সিঙ্গেল রুম- ১০০ স্কয়ার ফুট
- ডাবল রুম- ১২০ স্কয়ার ফুট
- বাথরুম- ৩০ স্কয়ার ফুট
মনে রাখা জরুরী, প্রতিটি রুমেই অবাধে বায়ু চলাচলের বায়ুচলন ও সিলিং ফ্যান থাকতে হবে
দেশের পাঁচ তারকা হোটেল: দেশে সরকার অনুমোদিত পাঁচ তারকা হোটেল রয়েছে ১৭টি। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন দেশের পাঁচ তারকা হোটেলের তালিকা প্রকাশ করেছে। সরকার অনুমোদিত এ পাঁচ তারকা হোটেলগুলো হলো প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও; ইন্টারকন্টিনেন্টাল, র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, লা মেরিডিয়ান ঢাকা, দ্য ওয়েস্টিন, হোটেল সারিনা লিমিটেড, রেনেসাঁ হোটেল, র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ, চট্টগ্রাম; রয়্যাল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, কক্সবাজার; সিগ্যাল হোটেল লিমিটেড, কক্সবাজার; ওশান প্যারাডাইস লিমিটেড, কক্সবাজার; সায়মন বিচ রিসোর্ট লিমিটেড, কক্সবাজার; গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার; মম ইন লিমিটেড, বগুড়া; হোটেল জাবির প্যারাডাইস লিমিটেড, যশোর; দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট, হবিগঞ্জ।