১৬ টি স্পেশাল ইফতার রেসিপি
ইফতার হল রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে রোজাদাররা সূর্যাস্তের পর তাদের উপবাস ভঙ্গ করেন। বিভিন্ন মুসলিম দেশে ইফতার খাবারের ধরন একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য হলো শরীরকে পুনরায় শক্তি দেওয়ার জন্য পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা। ইফতার খাবারে সাধারণত মিষ্টি, ফল, পানীয়, স্যুপ, এবং উচ্চ শক্তির খাবারের মিশ্রণ থাকে।নিচে ১৬ টি ইফতার রেসিপি দেয়া হলো:
১. ডিম চপ:
ইফতারিতে আমাদের অনেকেরই প্রিয় ডিম চপ। বিশেষ করে শিশুরা তো দারুন পছন্দ করে এই খাবারটি। কিন্ত অনেকেই জানেন না কিভাবে ডিম দিয়ে চপ তৈরি করতে হয়। যারা ডিম চপের সব থেকে সহজ রেসিপি জানেন না তাদের জন্য আজ রইলো ডিম চপ তৈরির সবচেয়ে সহজ রেসিপি তৈরির পদ্ধতি।
উপকরণ:
- খাস ফুডের ডিম সিদ্ধ ৪ টি
- আলু সিদ্ধ আধা কেজি পরিমাণ
- পেঁয়াজ কুচি ২ টি
- কাঁচা মরিচ কুচি স্বাদ মতো
- গোল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
- ধনিয়া পাতা ৩ টেবিল চামচ
- লবন পরিমাণমতো
- ব্রেড ক্রাম ও বিস্কিটের গুঁড়া ১ কাপ
- ফেটানো ডিম ২ টি
- তেল পরিমাণমতো
প্রস্তুত প্রনালী: ডিম সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে রাখুন। আলু ধুয়ে সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিন। সিদ্ধ আলুর সাথে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনিয়া পাতা কুচি, গোল মরিচের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে খুব ভাল করে মেখে নিন। এবার আলুর মিশ্রণের ভিতর আস্ত সিদ্ধ ডিম ভরে চপের আকৃতিতে গড়ে নিন।
২ টি ডিম একটু লবন দিয়ে ফেটিয়ে নিন। চপগুলো ডিমের গোলায় ডুবিয়ে ব্রেড ক্রামে জড়িয়ে কিছু সময়ের জন্য ফ্রিজে রেখে দিন। চাইলে ব্রেড ক্রামের সাথে চিজ কুচিও মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে স্বাদ আরও বেড়ে যাবে।
এবার ফ্রিজ থেকে চপগুলো বের করে ডুবো তেলে ভেজে তুলুন। যাতে করে বাদামী রং আসে। হয়ে গেলে ইফতারির টেবিলে গরম গরম পরিবেশন করুন দারুন মজাদার ডিম চপ।
২. বেগুনী:
ইফতারে নানা রকম খাবারের মধ্যে একটি হচ্ছে বেগুনী। এটা ইফতারিতে যোগ করে বাড়তি স্বাদ। অনেকে আবার বেগুনী মুড়ির সাথে মাখিয়ে খেতেও খুব পছন্দ করে।
উপকরণ:
- বেগুন পাতলা করে পিস করা
- বেসন ১ কাপ
- ময়দা ১ টেবিল চামচ
- ধনিয়া গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- জিরা বাটা ১/৩ চা চামচ
- আদা বাটা ১/২ চা চামচ
- রসুন বাটা ১/২ চা চামচ
- বেকিং পাউডার ১/৪ চা চামচ
- কর্ণ ফ্লাওয়ার ১/২ চা চামচ
- মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- লবণ পরিমাণমতো
- পানি পরিমাণমতো
- ডিম ১ টা
- ভাজার জন্য পরিমাণমতো তেল
প্রস্তুত প্রণালি: বেগুনী তৈরির ১ ঘণ্টা আগে বেসনের মিশ্রণ তৈরী করতে হবে। প্রথমে বাটিতে বেসন নিয়ে বেগুন, পানি, ডিম ও তেল ছাড়া সব উপকরণ ভালভাবে মিশিয়ে নিন। এবার পরিমাণমতো পানি দিয়ে মিশ্রণটা মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রণে ডিম ভেঙ্গে দিন। এবার মিশ্রণটি ১ ঘন্টা রেখে দিন।
১ ঘন্টা পর এবার কাটা বেগুনগুলো ধুয়ে লম্বা ভাবে পাতলা করে কেটে সামান্য লবণ, চিনি, হলুদ আর মরিচের গুঁড়া মেখে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। এতে বেগুনগুলো নরম হবে। খেতে ভাল লাগবে।
এবার ভাজার জন্য কড়াইতে তেল গরম করুন। তারপর পাতলা করে কেটে রাখা বেগুন বেসনের মিশ্রনে ভালভাবে ডুবো তেলে ভাজুন, যতক্ষন পর্যন্ত না সেটা বাদামী রং ধারণ করে। হয়ে গেল ইফতারির মজাদার আইটেম বেগুনী।
৩. চিকেন সালাদ:
চিকেন সালাদ অনেকেই পছন্দ করেন। আর তাই রোজাতে ইফতারের সময় পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় অনেকেই চিকেন সালাদ রাখেন।
উপকরণ:
- হাড় ছাড়া খাস ফুডের মুরগির মাংস ১ কাপ
- ময়দা ২ টেবিল চামচ
- ওনিয়ন পাউডার ১ চা চামচ (বাটা পেয়াজ দিয়েও করতে পারেন)
- গারলিক পাউডার ১ চা চামচ
- মরিচ গুঁড়া হাফ চা চামচ
- গোল মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
- অল্প টমেটো সস ১ টেবিল চামচ
- লবণ স্বাদমত
- তেল ১ টেবিল চামচ
সালাদের জন্য যা লাগবে:
- শসা, গাজর, টমেটো, লেটুস কুচি
- ভাঁজা মচমচে নুডুলস
- লেবুর রস
- অল্প অলিভ ওয়েল
প্রস্তত প্রণালী: তেল ছাড়া মাংসের সব উপকরন মাংসের সাথে মিশিয়ে মেরিনেট করে রাখুন ১০ মিনিট। এক ঘণ্টা হলে আরো ভালো। প্রথমে প্যানে তেল দিয়ে তেল গরম হলে মেরিনেট করে রাখা মাংস দিয়ে মিডিয়াম আঁচে রান্না করুন। ভাজা ভাজা হলে নামিয়ে নিন।
এখন সালাদের জন্য কেটে রাখা শসা, গাজর, টমেটো, লেটুস কুচিতে অল্প লবণ, ভাজা মচমচে নুডুলস, লেবুর রস আর অল্প অলিভ ওয়েল দিয়ে মেখে নিন। (লবণটা খেয়াল রাখতে হবে কারন রান্না করা মাংসতেও লবণ দেয়া আছে)।
প্লেটে পরিবেশনের সময় আগে মাখানো সালাদ সাজিয়ে নিন। এর উপর রান্না করা মাংস ছড়িয়ে দিন। চাইলে কিছু খাস ফুডের ভাজা বাদাম উপরে ছিটিয়ে পরিবেশন করতে পারেন। এতে পরিবেশনটা দেখতেও ভালো লাগবে।
৪. সাধারণ ছোলা পিঁয়াজুকেই করে তুলুন স্বাদে অনন্য:
উপকরণ:
- ছোলা ২ কাপ
- আলু ১ টা কিউব করে কাটা
- পেঁয়াজ কুচি ১/৪ কাপ
- আদা বাটা ১ চা চামচ
- রসুন বাটা আধা চা চামচ
- জিরা বাটা আধা চা চামচ
- ধনে বাটা ১ চা চামচ
- হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ
- মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
- কাঁচামরিচ ৫-৬টি
- লবণ পরিমাণমতো
- তেল ৩ টেবিল চামচ
- তেজপাতা ২টি
- দারচিনি ২ টুকরা
- এলাচ ২টি
- আস্ত জিরা সামান্য
প্রস্তুত প্রণালী: ছোলা ৫-৬ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করতে হবে। তেল গরম করে আস্ত জিরা দিয়ে পেঁয়াজ কুচি বাদামী করে ভাজতে হবে। এরপর আলু এবং সব বাটা ও গুঁড়া মসলা কষিয়ে ছোলা দিয়ে ভুনতে হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি উপকরণ দিয়ে কষিয়ে অল্প পানি দিয়ে রান্না করতে হবে। ছোলার ওপর তেল এলে আগুনের আঁচ কমাতে হবে। এর পর কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।
৫. মজাদার গার্লিক ব্রেড:
বাইরের দোকানের এই খাবারটি আপনারা চাইলেই তৈরি করে ফেলতে পারেন বাসায়। সময় লাগবে মাত্র ৫ মিনিট। ইফতারে বা ডিনারে সূপের সাথে পরিবেশন করুন। খেতে পারেন এমনিও। তেলে ভাজা খাবারের চাইতে স্বাস্থ্যকর তো বটেই, দারুণ মজাদারও।
উপকরণ:
- পাউরুটি, হটডগ রোল
- নরম চিজ
- মাখন
- রসুন বাটা বা ব্লেন্ড করে নেয়া কিংবা মিহি কুচি
- টমেটো সস সামান্য
- লবণ স্বাদমত
প্রস্তত প্রণালী: পনির, রসুন, সস ও লবণ একসাথে মিশিয়ে মিশ্রন তৈরি করতে হবে প্রথমে। এরপর পাউরুটিকে আপনার পছন্দের মত গার্লিক ব্রেডের মত করে টুকরো করতে হবে। টুকরো ব্রেড রোলগুলোতে ভালভাবে মাখন মাখিয়ে নিতে হবে। মাখন লাগানো হলে চিজের মিশ্রন লাগাতে হবে।
এরপর বেকিং ট্রে’র মধ্যে মিশ্রন লাগানো ব্রেড টুকরো গুলোকে সাজিয়ে ৩-৫ মিনিটের জন্য মাইক্রোওভেনে গরম করতে দিতে হবে। ইলেকট্রিক ওভেন হলে রুটি লাল ও মচমচে হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শুরুতে ওভেন প্রি-হিট করে নিতে হবে।
তাহলেই তৈরি সবার পছন্দের গার্লিক ব্রেড।
৬. ভেজিটেবল ব্রেড চপ:
উপকরণ:
- পাউরুটি ৮ পিস
- বেকিং পাউডার ১ চা চামচ
- বেসন ৩ টেবিল চামচ
- মটরশুঁটি, গাজর কুচি, বাধাকপি কুচি, মটরশুটি, সিদ্ধ আলু ছোট টুকরা
- ধনিয়া পাতা কুচি এক মুঠো পরিমান
- আদা মিহি কুচি, পেঁয়াজ মিহি কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি
- গোল মরিচ গুঁড়া হাফ চা চামচ
- গরম মশলা গুঁড়া ১ চা চামচ
- লবণ স্বাদমত
প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে পাউরুটির পিস গুলোকে পানিতে ভিজিয়ে নরম করে পানি ঝরিয়ে নিন। একদম ভর্তার মত হবে। এবার এর সাথে সব সবজি কুচি, আলু টুকরা, পেঁয়াজ, আদা, কাঁচা মরিচ আর ধনিয়া পাতা কুচি, বেকিং পাউডার, বেসন, লবণ গোলমরিচ ও গরম মশলা গুঁড়া দিয়ে মাখিয়ে ছোট চপ তৈরি করুন।
ভাজার তেল গরম হলে চপগুলো ভেজে বাদামী রঙ হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
৭. মিষ্টি সেমাই:
ইফতারি আর মিষ্টি সেমাই ছাড়া অসম্পূর্ণ মনে হয়। মিষ্টি সেমাই গরম গরম পরিবেশন করলে, রোজাদাররা পছন্দ করেন। এটি খুব সহজেই তৈরি করা যায় এবং মিষ্টি স্বাদে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
উপকরণ:
- সেমাই ২ কাপ
- মাখন ৩ টেবিল চামচ
- দুধ ৪ কাপ
- চিনি ১ কাপ (বা স্বাদমতো)
- এলাচ ৩টি
- কিশমিশ ও বাদাম ১/৪ কাপ
- পেস্তা কুচি ২ টেবিল চামচ
- পানি ১ কাপ
প্রস্তুত প্রণালী: একটি প্যানে মাখন গরম করে সেমাই ভেজে নিন যতক্ষণ না সেমাইটা সোনালি হয়। তারপর, এতে দুধ ও এলাচ যোগ করুন। দুধ ফুটে উঠলে চিনি, কিশমিশ, বাদাম ও পেস্তা দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন। সেমাই একটু ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন। গরম গরম পরিবেশন করুন।
৮. পুডিং:
পুডিং একটি মিষ্টান্ন যা ইফতারিতে খেতে খুবই স্বাদে পরিপূর্ণ। মিষ্টি দুধ এবং নানা উপকরণের সংমিশ্রণ পুডিংয়ের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।
উপকরণ:
- দুধ ২ কাপ
- চিনি ১/৪ কাপ
- ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা চামচ
- কাস্টারড পাউডার ২ টেবিল চামচ
- পানি ১/৪ কাপ
প্রস্তুত প্রণালী: দুধ এবং চিনি একসাথে চুলায় গরম করুন। অন্য একটি পাত্রে কাস্টারড পাউডার এবং পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। গরম দুধে ধীরে ধীরে এই পেস্ট যোগ করে নেড়ে নেড়ে রান্না করুন যতক্ষণ না এটি ঘন হয়ে যায়। তারপর ঠান্ডা হতে দিন এবং ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে পুডিং পরিবেশন করুন।
৯. দই বড়া:
দই বড়া একটি জনপ্রিয় ইফতারি আইটেম যা মসলা ও দই দিয়ে তৈরি হয়। গরম গরম পরিবেশন করা দই বড়া রোজাদারদের মনোরঞ্জন করে।
উপকরণ:
- বড়া (মোটা ডাল দিয়ে তৈরি) ১০-১২টি
- দই ১ কাপ
- ধনিয়া পাতা কুচি ১ টেবিল চামচ
- কাঁচা মরিচ কুচি ২টি
- হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ
- লবণ স্বাদমত
- চাট মশলা ১ চা চামচ
- পেঁয়াজ কুচি ১/৪ কাপ
প্রস্তুত প্রণালী: বড়াগুলো ভালোভাবে ভেজে সেদ্ধ করে নিন। তারপর দইয়ের মধ্যে লবণ, চাট মশলা, কাঁচামরিচ কুচি, ধনিয়া পাতা কুচি এবং পেঁয়াজ কুচি মিশিয়ে রাখুন। বড়াগুলোর ওপর দই ঢেলে ঠান্ডা হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ রাখুন। উপরে চাট মশলা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
১০. মুগ ডাল পাখানী:
এটি একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাবার, যা ইফতার বা যেকোনো সময়ে উপভোগ করা যায়। মুগ ডাল পাখানী স্বাস্থ্যকর এবং হজমেও সহায়ক।
উপকরণ:
- মুগ ডাল ১ কাপ
- তেজপাতা ২টি
- আদা কুচি ১ টেবিল চামচ
- লবণ স্বাদমত
- গরম মশলা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- সরিষার তেল ১ টেবিল চামচ
প্রস্তুত প্রণালী: মুগ ডাল ভালোভাবে ধুয়ে পানি দিয়ে সেদ্ধ করুন। এরপর একটি প্যানে সরিষার তেল গরম করে তেজপাতা ও আদা কুচি দিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিন। সেদ্ধ মুগ ডালে এই তেল মিশিয়ে নিন এবং গরম মশলা গুঁড়া এবং লবণ দিয়ে রান্না করুন। কিছুক্ষণ রান্নার পর মুগ ডাল পাখানী তৈরি হয়ে যাবে। ইফতারে এই পাখানী পরিবেশন করুন।
১১. ফালুদা:
ফালুদা একটি জনপ্রিয় মিষ্টান্ন এবং ডেজার্ট যা ইফতারে দারুণ উপভোগ্য। ঠান্ডা ঠান্ডা ও মিষ্টি স্বাদে ফালুদা সব বয়সী মানুষের প্রিয় খাবার।
উপকরণ:
- সেমাই ১ কাপ
- ভ্যানিলা আইসক্রিম ১ কাপ
- চিয়া সিড ১ টেবিল চামচ
- রোজ ওয়াটার ১ টেবিল চামচ
- রোজ শারব্য ১/৪ কাপ
- কাঠবাদাম কুচি ১ টেবিল চামচ
- চিনি ৩ টেবিল চামচ
প্রস্তুত প্রণালী: সেমাই সিদ্ধ করে ঠান্ডা করে নিন। এরপর চিয়া সিড এবং রোজ ওয়াটার যোগ করুন। একটি গ্লাসে প্রথমে সেমাই, তারপর আইসক্রিম, রোজ শারব্য এবং চিনি মিশিয়ে দিন। উপরে কাঠবাদাম কুচি ছড়িয়ে দিন। ফালুদা তৈরি হয়ে গেল, গরম গরম পরিবেশন করুন।
১২. মিষ্টি দই:
মিষ্টি দই ইফতার বা যেকোনো খাবারের পরে দারুণ ফ্রেশ এবং মিষ্টি স্বাদ দেয়। এর উপকারিতা অনেক, যেমন পেট ভালো রাখা ও হজমে সহায়তা করা।
উপকরণ:
- দই ২ কাপ
- চিনি ২ টেবিল চামচ
- এলাচ গুঁড়া ১/৪ চা চামচ
- জলপানির মতো ঠান্ডা পানি (স্বাদমত)
প্রস্তুত প্রণালী: দই চিনি এবং এলাচ গুঁড়া ভালোভাবে মিশিয়ে ঠান্ডা করে নিন। দই ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।
১৩. পনির তিক্কা:
পনির তিক্কা একটি সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক যা ইফতারির সময় দারুণ জনপ্রিয়। এর মশলাদার এবং টেন্ডার স্বাদে রোজাদারদের মুগ্ধ করবে।
উপকরণ:
- পনির ২৫০ গ্রাম (কিউব করে কাটা)
- দই ১/২ কাপ
- আদা-রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
- গোলমরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- তেল ২ টেবিল চামচ
- লবণ স্বাদমত
- স্লাইস করা লেবু এবং ধনিয়া পাতা (সাজানোর জন্য)
প্রস্তুত প্রণালী: একটি বাটিতে দই, আদা-রসুন বাটা, গোলমরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া এবং লবণ মিশিয়ে মেরিনেট তৈরি করুন। পনির কিউবগুলো এই মেরিনেটে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর প্যানে তেল গরম করে পনিরগুলো সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। লেবু স্লাইস এবং ধনিয়া পাতা দিয়ে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
১৪. ভেজিটেবল পকোড়া:
এটি একটি মজাদার এবং স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক যা ইফতারিতে খাবারের সঙ্গে খেতে খুব উপভোগ্য। সস, চাটনি কিংবা কেচাপের সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন।
উপকরণ:
- মিক্সড সবজি (গাজর, মটরশুঁটি, আলু, ফুলকপি) ১ কাপ
- বেসন ১ কাপ
- হলুদ গুঁড়া ১/৪ চা চামচ
- মরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- লবণ স্বাদমত
- তেল ভাজার জন্য
প্রস্তুত প্রণালী: সবজি ছোট ছোট কেটে একটি বাটিতে রাখুন। বেসন, হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া, জিরা গুঁড়া এবং লবণ দিয়ে মিশিয়ে নিন। একটু পানি দিয়ে মিশ্রণটি তৈরি করুন যাতে একটি ঘন পেস্ট তৈরি হয়। প্যানে তেল গরম করে ছোট ছোট পকোড়া ভেজে নিন যতক্ষণ না সোনালি এবং খাসা হয়ে যায়। সস বা কেচাপ দিয়ে পরিবেশন করুন।
১৫. খিচুড়ি:
খিচুড়ি ইফতারের জন্য একটি পুষ্টিকর এবং হালকা খাবার। এটি সাধারণত একসাথে চাল, ডাল এবং মশলা দিয়ে রান্না করা হয়। সহজে তৈরি হয় এবং পেট ভর্তি থাকে।
উপকরণ:
- চাল ১ কাপ
- মুগ ডাল ১/২ কাপ
- আদা কুচি ১ টেবিল চামচ
- পেঁয়াজ কুচি ১/৪ কাপ
- তেজপাতা ১টি
- দারচিনি ১ টুকরা
- এলাচ ২টি
- হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- লবণ স্বাদমত
- তেল ১ টেবিল চামচ
- জল ৩ কাপ
প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে চাল এবং মুগ ডাল ভালভাবে ধুয়ে নিন। একটি প্যানে তেল গরম করে তেজপাতা, দারচিনি এবং এলাচ ফোড়ন দিন। তারপর পেঁয়াজ কুচি ও আদা দিয়ে হালকা ভেজে নিন। চাল এবং ডাল মিশিয়ে দিয়ে হলুদ গুঁড়া ও লবণ দিন। ৩ কাপ জল দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে সেদ্ধ হতে দিন। ২০-২৫ মিনিট রান্না হলে খিচুড়ি প্রস্তুত।
১৬. ফালাফেল:
ফালাফেল একটি মিষ্টি এবং মশলাদার খাবার, যা ইফতারে পরিবেশন করা হলে সব রোজাদারদের আনন্দ দেয়। এটি ছোলা, মশলা এবং অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়।
উপকরণ:
- ছোলা ২ কাপ
- পেঁয়াজ ১টি
- রসুন ৩টি কোয়া
- ধনিয়া পাতা ২ টেবিল চামচ
- জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- গোলমরিচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
- তেল ভাজার জন্য
- লবণ স্বাদমত
প্রস্তুত প্রণালী: ছোলাগুলো সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করুন। তারপর ছোলা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া পাতা, জিরা গুঁড়া, গোলমরিচ গুঁড়া এবং লবণ মিশিয়ে একসঙ্গে পেস্ট তৈরি করুন। এবার মিশ্রণটি ছোট ছোট বল আকারে গড়ে তেল গরম করে ভেজে নিন। সস বা কেচাপের সঙ্গে পরিবেশন করুন।