রেড মিটের কয়েকটি সস
বিফ বা রেড মিটের জন্য বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সস রয়েছে যা ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি ও রন্ধনশৈলীর প্রতিফলন। নিচে কিছু জনপ্রিয় সসের তালিকা এবং তাদের উৎপত্তি, ইতিহাস, প্রধান উপকরণ ও স্বাদের বিবরণ দেওয়া হলো।
১. স্টেক সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
স্টেক সস মূলত যুক্তরাজ্যে উদ্ভূত এবং পরবর্তীতে এটি আমেরিকাতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি স্টেকের জন্য তৈরি করা হয়, যা মাংসের সাথে দারুণভাবে মিশে যায়।
প্রধান উপকরণ:
টমেটো পেস্ট, রসুন, পেঁয়াজ, ভিনেগার, এবং মশলা।
স্বাদ ও গন্ধ:
স্টেক সসের স্বাদ টক, মিষ্টি এবং কিছুটা ঝাঁঝালো। টমেটো ও ভিনেগারের মিশ্রণে এটি মাংসের সাথে ভালোভাবে মানিয়ে যায়।
ব্যবহার:
গ্রিলড বা রোস্টেড বিফ স্টেকের সাথে পরিবেশন করা হয়।
২. পেপারকর্ন সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
পেপারকর্ন সস ফরাসি খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি স্টেকের সাথে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এবং ফ্রান্সে বেশ জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
গোলমরিচ, ক্রিম, মাখন, এবং মাংসের স্টক।
স্বাদ ও গন্ধ:
পেপারকর্ন সসের স্বাদ মোলায়েম এবং মশলাদার। গোলমরিচের ঝাঁঝালো গন্ধ এবং ক্রিমের মোলায়েমতা এটিকে বিশেষ করে তোলে।
ব্যবহার:
স্টেক এবং গ্রিলড রেড মিটের সাথে পরিবেশন করা হয়।
৩. রেড ওয়াইন সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
রেড ওয়াইন সস ফ্রান্সে উদ্ভূত। এটি ফরাসি রন্ধনশৈলীতে একটি ঐতিহ্যবাহী সস যা বিফ বা রেড মিটের সাথে ব্যবহার করা হয়।
প্রধান উপকরণ:
রেড ওয়াইন, মাংসের স্টক, রসুন, এবং শ্যালট (এক ধরনের পেঁয়াজ)।
স্বাদ ও গন্ধ:
রেড ওয়াইন সসের স্বাদ মোলায়েম, মাংসল এবং কিছুটা টক। রেড ওয়াইন এটিকে গভীরতা এবং একটি সূক্ষ্ম সুবাস প্রদান করে।
ব্যবহার:
বিফ স্টেক এবং রোস্টেড রেড মিটের সাথে পরিবেশন করা হয়।
৪. বেয়ারনেইস সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
বেয়ারনেইস সস ফ্রান্সের এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী সস, যা ১৮৩০-এর দশকে উদ্ভূত হয়েছিল। এটি মূলত স্টেক এবং গ্রিলড মাংসের জন্য জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
ডিমের কুসুম, মাখন, ট্যারাগন (এক ধরনের হার্ব), এবং ভিনেগার।
স্বাদ ও গন্ধ:
বেয়ারনেইস সসের স্বাদ ক্রিমি, মোলায়েম এবং সামান্য টক। ট্যারাগনের সুবাস এবং ডিমের মোলায়েমতা এটিকে ভিন্ন স্বাদ প্রদান করে।
ব্যবহার:
স্টেক এবং রোস্টেড মাংসের সাথে পরিবেশন করা হয়।
৫. বারবিকিউ সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
বারবিকিউ সসের উৎপত্তি আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে। এটি একটি ক্লাসিক সস যা গ্রিলড এবং রোস্টেড মাংসে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
টমেটো পেস্ট, চিনি, ভিনেগার, রসুন এবং মশলা।
স্বাদ ও গন্ধ:
বারবিকিউ সসের স্বাদ মিষ্টি, ঝাল এবং কিছুটা টক। এতে ধোঁয়ার সুবাস থাকে যা মাংসের সাথে চমৎকারভাবে মিলে যায়।
ব্যবহার:
গ্রিলড বা রোস্টেড বিফ রিব এবং অন্যান্য রেড মিটের উপর ব্যবহার করা হয়।
৬. চিমিচুরি সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
চিমিচুরি সস আর্জেন্টিনায় উদ্ভূত এবং এটি আর্জেন্টাইন বারবিকিউর অংশ হিসেবে জনপ্রিয়। এটি সাধারণত গরুর মাংসের সাথে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
পার্সলে, রসুন, লেবুর রস, ভিনেগার, এবং অলিভ অয়েল।
স্বাদ ও গন্ধ:
চিমিচুরি সসের স্বাদ তাজা, মশলাদার এবং সামান্য টক। এতে পার্সলে এবং রসুনের মিশ্রণে একটি সতেজ সুবাস থাকে।
ব্যবহার:
গ্রিলড বা রোস্টেড বিফ এবং অন্যান্য রেড মিটের উপরে ছিটিয়ে পরিবেশন করা হয়।
৭. ডেমি-গ্লেস সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
ডেমি-গ্লেস সস ফ্রান্সে উদ্ভূত। এটি এক ধরনের ঘন সস যা বিভিন্ন ধরনের মাংসের সাথে ব্যবহার করা হয়।
প্রধান উপকরণ:
গরুর মাংসের স্টক, রেড ওয়াইন, এবং বিভিন্ন মশলা।
স্বাদ ও গন্ধ:
ডেমি-গ্লেস সসের স্বাদ মাংসল এবং মোলায়েম। এটি গাঢ় এবং গভীর স্বাদযুক্ত।
ব্যবহার:
রোস্টেড এবং গ্রিলড রেড মিটের উপর ব্যবহার করা হয়।
৮. হর্সর্যাডিশ সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
হর্সর্যাডিশ সস যুক্তরাজ্য এবং মধ্য ইউরোপে জনপ্রিয়। এটি মূলত রোস্টেড বিফের জন্য ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
হর্সর্যাডিশ রুট, ক্রিম, লেবুর রস, এবং মেয়োনিজ।
স্বাদ ও গন্ধ:
হর্সর্যাডিশ সসের স্বাদ তীব্র এবং ঝাঁঝালো। এতে হর্সর্যাডিশের ঝাঁজ ও ক্রিমের মোলায়েমতা থাকে।
ব্যবহার:
রোস্টেড এবং গ্রিলড বিফের সাথে পরিবেশন করা হয়।
৯. মাস্টার্ড সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
মাস্টার্ড সস ফরাসি এবং ব্রিটিশ রান্নায় জনপ্রিয়। এটি সরিষা দিয়ে তৈরি একটি সস যা মাংসের সাথে চমৎকারভাবে মেশে।
প্রধান উপকরণ:
ডিজন সরিষা, মাখন, ক্রিম, এবং সামান্য মশলা।
স্বাদ ও গন্ধ:
মাস্টার্ড সসের স্বাদ ঝাঁঝালো, ক্রিমি এবং কিছুটা টক।
ব্যবহার:
স্টেক এবং অন্যান্য গ্রিলড মাংসের সাথে ব্যবহার করা হয়।
১০. গার্লিক রোজমেরি সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
গার্লিক রোজমেরি সস ইতালিয়ান এবং ফরাসি রান্নায় ব্যবহৃত হয়। এটি রেড মিটের সাথে একটি ক্লাসিক সস।
প্রধান উপকরণ:
রসুন, রোজমেরি, অলিভ অয়েল এবং লবণ।
স্বাদ ও গন্ধ:
গার্লিক রোজমেরি সসের স্বাদ মশলাদার এবং রোজমেরির সুবাসযুক্ত।
ব্যবহার:
রোস্টেড বিফ এবং গ্রিলড রেড মিটের উপর ছিটিয়ে পরিবেশন করা হয়।
এই সসগুলোর প্রতিটি বিফ বা রেড মিটের স্বাদকে সমৃদ্ধ করে এবং একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
১১. গরগনজোলা সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
গরগনজোলা সস ইতালিতে উদ্ভূত, যেখানে গরগনজোলা চিজ ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়। এটি মাংসের সাথে বিশেষত জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
গরগনজোলা চিজ, ক্রিম, মাখন, এবং সামান্য রসুন।
স্বাদ ও গন্ধ:
গরগনজোলা সসের স্বাদ ক্রিমি, মোলায়েম এবং গরগনজোলা চিজের টক ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত।
ব্যবহার:
স্টেক বা গ্রিলড রেড মিটের উপরে ড্রেসিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
১২. হান্টার সস (জাগার সস)
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
জার্মানির একটি ঐতিহ্যবাহী সস, যা “জাগার” বা হান্টারের নামে পরিচিত। এটি মূলত মাশরুম দিয়ে তৈরি হয়।
প্রধান উপকরণ:
মাশরুম, মাখন, মাংসের স্টক, পেঁয়াজ, এবং ক্রিম।
স্বাদ ও গন্ধ:
হান্টার সসের স্বাদ মোলায়েম, মাংসল এবং মাশরুমের বিশেষ গন্ধযুক্ত।
ব্যবহার:
স্টেক, রোস্টেড এবং গ্রিলড বিফের সাথে পরিবেশন করা হয়।
১৩. হোয়াইট ওয়াইন সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
হোয়াইট ওয়াইন সস ফ্রান্সে উদ্ভূত এবং এটি বিভিন্ন ধরনের মাংস এবং স্টেকের সাথে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
হোয়াইট ওয়াইন, ক্রিম, মাখন, এবং শ্যালট।
স্বাদ ও গন্ধ:
হোয়াইট ওয়াইন সসের স্বাদ মোলায়েম এবং কিছুটা টক। এতে হোয়াইট ওয়াইনের সুবাস রয়েছে।
ব্যবহার:
স্টেক এবং রোস্টেড মাংসের সাথে পরিবেশন করা হয়।
১৪. প্লাম সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
প্লাম সস চীনে উদ্ভূত এবং এটি চাইনিজ খাবারের একটি অংশ হিসেবে জনপ্রিয়। মিষ্টি স্বাদের এই সসটি মাংসের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে যায়।
প্রধান উপকরণ:
পাকা প্লাম, চিনি, ভিনেগার এবং সামান্য চিলি ফ্লেকস।
স্বাদ ও গন্ধ:
প্লাম সসের স্বাদ মিষ্টি এবং সামান্য টক, যা মাংসের সাথে মজাদার অভিজ্ঞতা দেয়।
ব্যবহার:
বিফ এবং পোর্কের সাথে মেরিনেট বা ডিপ হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
১৫. ব্লু চিজ সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
ব্লু চিজ সস ইউরোপে জনপ্রিয়। এটি ব্লু চিজের ব্যবহার দ্বারা বিফ বা রেড মিটের সাথে পরিবেশন করা হয়।
প্রধান উপকরণ:
ব্লু চিজ, ক্রিম, মাখন, এবং লেবুর রস।
স্বাদ ও গন্ধ:
ব্লু চিজ সসের স্বাদ ঝাঁঝালো, ক্রিমি এবং ব্লু চিজের বিশেষ গন্ধযুক্ত।
ব্যবহার:
স্টেক বা গ্রিলড মাংসের উপর ড্রেসিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৬. সয়ান ক্রিম হর্সর্যাডিশ সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
যুক্তরাজ্যে উদ্ভূত এই সসটি হর্সর্যাডিশ এবং সয়ান ক্রিম দিয়ে তৈরি, যা রোস্টেড মাংসের সাথে জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
হর্সর্যাডিশ রুট, সয়ান ক্রিম, মেয়োনিজ এবং লেবুর রস।
স্বাদ ও গন্ধ:
এই সসের স্বাদ ঝাঁঝালো এবং ক্রিমি। এতে হর্সর্যাডিশের তীব্র স্বাদ থাকে।
ব্যবহার:
রোস্টেড বিফ এবং গ্রিলড মাংসের সাথে পরিবেশন করা হয়।
১৭. পোর্ট ওয়াইন সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
পোর্ট ওয়াইন সস পর্তুগালে উদ্ভূত। এটি পোর্ট ওয়াইন দিয়ে তৈরি হয়, যা বিশেষত মাংসের সাথে ব্যবহার করা হয়।
প্রধান উপকরণ:
পোর্ট ওয়াইন, মাংসের স্টক, শ্যালট এবং মাখন।
স্বাদ ও গন্ধ:
পোর্ট ওয়াইন সসের স্বাদ মিষ্টি এবং গভীর, এতে ওয়াইনের সুগন্ধ রয়েছে।
ব্যবহার:
বিফ স্টেক এবং রোস্টেড রেড মিটের সাথে পরিবেশন করা হয়।
১৮. মরিচ সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
মরিচ সস মেক্সিকোতে উদ্ভূত। এটি লাল মরিচ ব্যবহার করে তৈরি হয় এবং ঝালপ্রেমীদের জন্য এটি বিশেষ।
প্রধান উপকরণ:
লাল মরিচ, রসুন, ভিনেগার এবং চিনি।
স্বাদ ও গন্ধ:
মরিচ সসের স্বাদ ঝাল এবং কিছুটা মিষ্টি।
ব্যবহার:
রেড মিটের সাথে মেরিনেট বা ডিপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৯. এশিয়ান সয়া গার্লিক সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
এই সসটি এশিয়ান রান্নায় ব্যাপক জনপ্রিয় এবং চীন ও জাপানে এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়।
প্রধান উপকরণ:
সয়া সস, রসুন, আদা, চিনি এবং ভিনেগার।
স্বাদ ও গন্ধ:
সয়া গার্লিক সসের স্বাদ লবণাক্ত এবং মিষ্টি, রসুনের গন্ধ এটিকে আরও তীব্র করে।
ব্যবহার:
বিফ বা রোস্টেড মাংসের সাথে মেরিনেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২০. মার্শম্যালো ভিনেগারেট সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
এই সসটি উত্তর আমেরিকায় জনপ্রিয়। এটি ভিনেগারের মিশ্রণে মাংসের সাথে একটি ভিন্ন স্বাদ যোগ করে।
প্রধান উপকরণ:
ভিনেগার, মধু, মেয়োনিজ এবং বিভিন্ন মশলা।
স্বাদ ও গন্ধ:
মার্শম্যালো ভিনেগারেট সসের স্বাদ মিষ্টি, টক এবং কিছুটা ক্রিমি।
ব্যবহার:
রোস্টেড এবং গ্রিলড বিফের সাথে পরিবেশন করা হয়।
এই সসগুলো বিফ ও রেড মিটের স্বাদ ও সুবাসকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং খাবারের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করে তোলে।
চিকেনের কয়েকটি সস
চিকেনের জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি সস রয়েছে, যেগুলি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও অঞ্চলের ঐতিহ্য ধারণ করে। নিচে কিছু জনপ্রিয় সসের তালিকা এবং তাদের উৎপত্তি, ইতিহাস, মূল উপকরণ এবং স্বাদের বিবরণ দেওয়া হলো।
১. বারবিকিউ সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
বারবিকিউ সসের উৎপত্তি আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে। ১৮শ শতাব্দীতে ইউরোপীয় ও আফ্রিকান অভিবাসীদের মিশ্রণে এর আদি রূপ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে এটি আমেরিকার মূল খাবারের একটি অংশ হয়ে ওঠে।
প্রধান উপকরণ:
টমেটো পেস্ট, ভিনেগার, চিনি বা মধু, এবং মশলা (লাল মরিচ, রসুন, পেঁয়াজ গুঁড়া)।
স্বাদ ও গন্ধ:
এই সসের স্বাদ মিষ্টি, ঝাল এবং কিছুটা টক থাকে, যেখানে ধোঁয়া স্বাদের মিশ্রণ এটি আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
ব্যবহার:
বারবিকিউড বা গ্রিলড চিকেনের উপর মেরিনেট বা ড্রেসিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. বাফালো সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
বাফালো সসের উৎপত্তি নিউইয়র্কের বাফালো শহরে। ১৯৬০-এর দশকে এই সসটি প্রথম বাফালো উইংসের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং সেখান থেকেই এটি বিখ্যাত হয়ে ওঠে।
প্রধান উপকরণ:
গোলমরিচের সস, মাখন, এবং ভিনেগার।
স্বাদ ও গন্ধ:
এই সসের স্বাদ ঝাল ও টক, তবে মাখনের উপস্থিতি এটিকে মোলায়েম করে দেয়।
ব্যবহার:
মূলত বাফালো উইংসের জন্য ব্যবহৃত হলেও এটি ভাজা বা গ্রিলড চিকেনের সাথেও খাওয়া যায়।
৩. টেরিয়াকি সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
জাপানি টেরিয়াকি সসের ইতিহাস বহু প্রাচীন, এবং এটি প্রাচীন জাপানি রান্নায় ব্যবহৃত হতো। এটি জাপানি "টেরিয়াকি" রান্না পদ্ধতি থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যেখানে মাংস মিষ্টি সসে মেরিনেট করে গ্রিল করা হয়।
প্রধান উপকরণ:
সয়া সস, সেক (জাপানি মদ), চিনি, এবং আদা।
স্বাদ ও গন্ধ:
টেরিয়াকি সস মিষ্টি ও লবণাক্ত স্বাদের মিশ্রণ, যা মাংসে চমৎকার স্বাদ যোগ করে।
ব্যবহার:
চিকেন মেরিনেট করে বা গ্রিলড চিকেনের সাথে সার্ভ করা হয়।
৪. গার্লিক পারমেসান সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
ইতালিয়ান প্রভাবিত এই সসটি পিজ্জা ও পাস্তা শিল্পে জনপ্রিয়, তবে এটি গ্রিলড ও বেকড চিকেনের সাথেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
মাখন, রসুন, পারমেসান চিজ, ক্রিম এবং বিভিন্ন ইতালিয়ান মশলা।
স্বাদ ও গন্ধ:
রসুন ও পারমেসানের মিশ্রণে এই সসের স্বাদ মাখনের মোলায়েম, চিজি ও রসুনের ঘ্রাণযুক্ত হয়ে থাকে।
ব্যবহার:
গার্লিক পারমেসান উইংস এবং গ্রিলড চিকেনের সাথে জনপ্রিয়।
৫. টিক্কা মসালা সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
এই সসটির উৎপত্তি দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানে। এটি মূলত টিক্কা মসালা রেসিপির জন্য বিখ্যাত।
প্রধান উপকরণ:
টমেটো পিউরি, ক্রিম, কাসুরি মেথি, রসুন, আদা, এবং মশলা।
স্বাদ ও গন্ধ:
টিক্কা মসালা সস মিষ্টি, মশলাদার ও ক্রিমি স্বাদের জন্য পরিচিত।
ব্যবহার:
চিকেন টিক্কা ও গ্রেভি ধরনের রান্নার জন্য ব্যবহৃত হয়।
৬. মধু সরাচা সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
এই সসটির উৎপত্তি এশিয়ার থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে হয়েছে। সরাচা একটি জনপ্রিয় থাই চিলি সস যা নানা স্বাদের সাথে মিশ্রণ করেই তৈরি করা হয়।
প্রধান উপকরণ:
মধু, সরাচা চিলি সস, এবং সামান্য লেবুর রস।
স্বাদ ও গন্ধ:
মধুর মিষ্টি ও সরাচার ঝাল স্বাদ একত্রে এটি মজাদার ঝাল-মিষ্টি স্বাদ তৈরি করে।
ব্যবহার:
গ্রিলড বা ফ্রাইড চিকেনের সাথে বিশেষ ড্রেসিং হিসেবে খাওয়া হয়।
৭. পেরি পেরি সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
পেরি পেরি সসটির উৎপত্তি আফ্রিকায়, পর্তুগিজদের মাধ্যমে এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে। পর্তুগিজরা আফ্রিকান বার্ডস আই চিলি (bird’s eye chili) থেকে এই সসটি তৈরি করা শুরু করে।
প্রধান উপকরণ:
বার্ডস আই চিলি, রসুন, লেবুর রস, ভিনেগার এবং অলিভ অয়েল।
স্বাদ ও গন্ধ:
এই সসের স্বাদ ঝাল ও কিছুটা টক, রসুন এবং লেবুর সংমিশ্রণে এটি একধরনের প্রাকৃতিক খুশবু যুক্ত হয়।
ব্যবহার:
পেরি পেরি চিকেন গ্রিল, রোস্টেড চিকেন এবং মেরিনেটিংয়ের জন্য জনপ্রিয়।
৮. টার্টার সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
এই সসটি মূলত ফ্রান্স থেকে উদ্ভূত হয়। এটি মাছের জন্য প্রচলিত হলেও ফ্রাইড বা গ্রিলড চিকেনের জন্যও বেশ জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
মেয়োনিজ, কাটা পেঁয়াজ, আচার, ক্যাপারস, এবং কিছু ভিনেগার।
স্বাদ ও গন্ধ:
টার্টার সসের স্বাদ ক্রিমি এবং সামান্য টক। আচার এবং ক্যাপারস এর খুশবু এবং টক স্বাদ যোগ করে।
ব্যবহার:
ভাজা বা গ্রিলড চিকেনের সাথে ডিপ হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
৯. সয়া গার্লিক সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
এই সসটি পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে, বিশেষ করে চীন এবং কোরিয়াতে জনপ্রিয়। সয়া সস এবং রসুনের সংমিশ্রণে এটি তৈরি হয়।
প্রধান উপকরণ:
সয়া সস, রসুন, আদা, এবং সামান্য চিনি।
স্বাদ ও গন্ধ:
সয়া গার্লিক সসের স্বাদ লবণাক্ত এবং সামান্য মিষ্টি। রসুনের উপস্থিতিতে এটি একটি মজাদার গন্ধ দেয়।
ব্যবহার:
চিকেন স্টার-ফ্রাই, গ্রিলড বা বারবিকিউড চিকেনের জন্য মেরিনেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১০. রাঁচ সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
রাঁচ সসের উৎপত্তি আমেরিকায়। এটি মূলত সালাদ ড্রেসিং হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, আজ এটি বিভিন্ন খাবারের সাথে ডিপ হিসেবে জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
মেয়োনিজ, দই, লেবুর রস, ডিল, এবং বিভিন্ন ধরনের হার্বস।
স্বাদ ও গন্ধ:
রাঁচ সস ক্রিমি, টক এবং মোলায়েম স্বাদের। এতে তাজা হার্বস এর খুশবু এবং লেবুর টক স্বাদ থাকে।
ব্যবহার:
ভাজা বা গ্রিলড চিকেনের সাথে ডিপ হিসেবে খাওয়া হয়।
১১. মোল সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
মেক্সিকোতে উদ্ভূত এই সসটি ঐতিহ্যবাহী মেক্সিকান খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বিভিন্ন মশলা এবং চকলেটের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়, যা অনেক প্রাচীন মেক্সিকান উৎসব এবং রেসিপিতে ব্যবহৃত হতো।
প্রধান উপকরণ:
চকলেট, মরিচ, দারুচিনি, জিরা, এবং অন্যান্য মেক্সিকান মশলা।
স্বাদ ও গন্ধ:
মোল সসের স্বাদ জটিল এবং এতে চকলেট ও মরিচের মিশ্রণে মিষ্টি ও ঝাল স্বাদ থাকে। এটি একটি গভীর এবং মজাদার গন্ধ প্রদান করে।
ব্যবহার:
চিকেন এনচিলাডাস এবং বিভিন্ন মেক্সিকান ডিশে ব্যবহৃত হয়।
১২. কোরিয়ান গোজুচাং সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
গোজুচাং সস কোরিয়ান ঐতিহ্যের একটি অংশ। এটি কোরিয়ান রান্নার প্রধান উপাদান হিসেবে পরিচিত এবং প্রাচীন কাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
প্রধান উপকরণ:
গোজুচাং (কোরিয়ান চিলি পেস্ট), সয়া সস, চিনি, রসুন, এবং সামান্য ভিনেগার।
স্বাদ ও গন্ধ:
গোজুচাং সসের স্বাদ মিষ্টি, ঝাল এবং কিছুটা টক। এর পেস্টি ঘনত্ব ও ধোঁয়াটে স্বাদ এটি অন্য সস থেকে আলাদা করে তোলে।
ব্যবহার:
চিকেন বোল, গ্রিলড বা ফ্রাইড চিকেনের উপরে টপিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৩. টাহিনি সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
টাহিনি সস মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রাচীন সস, যা মুলত সেদেশের হুমুস এবং শাওয়ারমা জাতীয় খাবারের সাথে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
তিলের পেস্ট (টাহিনি), লেবুর রস, রসুন, এবং অলিভ অয়েল।
স্বাদ ও গন্ধ:
টাহিনি সসের স্বাদ ক্রিমি, মোলায়েম এবং কিছুটা টক। এটি তিলের কারণে একটু মাটির গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে।
ব্যবহার:
গ্রিলড বা রোস্টেড চিকেনের সাথে ডিপ হিসেবে খাওয়া হয়।
১৪. সালসা ভার্দে সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
সালসা ভার্দে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী সবুজ সস, যা মুলত মেক্সিকান খাবারের অংশ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি নানা ধরনের ভেষজ উপাদানে তৈরি।
প্রধান উপকরণ:
পার্সলে, রসুন, ক্যাপারস, লেবুর রস, এবং অলিভ অয়েল।
স্বাদ ও গন্ধ:
সালসা ভার্দে সসের স্বাদ টক, মশলাদার এবং ভেষজের সুগন্ধযুক্ত। এটি হালকা স্বাদ এবং সতেজ গন্ধ নিয়ে আসে।
ব্যবহার:
রোস্টেড বা গ্রিলড চিকেনের উপরে ছড়িয়ে অথবা ডিপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৫. হারিসা সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
হারিসা সস উত্তর আফ্রিকান দেশগুলোতে, বিশেষত মরোক্কো এবং তিউনিশিয়াতে প্রচলিত। এটি প্রাচীন মরোক্কান রান্নার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
প্রধান উপকরণ:
লাল মরিচ, রসুন, ধনেপাতা, জিরা এবং অলিভ অয়েল।
স্বাদ ও গন্ধ:
হারিসা সসের স্বাদ ঝাল, কিছুটা টক, এবং ধোঁয়াটে মশলার সুবাসযুক্ত।
ব্যবহার:
গ্রিলড বা বেকড চিকেনের উপরে ব্যবহৃত হয় এবং মেরিনেট করতেও ব্যবহার করা যায়।
১৬. মাংগো হাবানেরো সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
মেক্সিকো ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এই সসটি জনপ্রিয়। এটি মূলত ফলের মিষ্টি ও মরিচের ঝালের মিশ্রণে তৈরি হয়।
প্রধান উপকরণ:
ম্যাঙ্গো, হাবানেরো মরিচ, ভিনেগার, চিনি, এবং সামান্য লেবুর রস।
স্বাদ ও গন্ধ:
ম্যাঙ্গো হাবানেরো সসের স্বাদ মিষ্টি ও ঝাল এবং এতে ট্রপিক্যাল ফলের মিষ্টি গন্ধ থাকে।
ব্যবহার:
গ্রিলড বা রোস্টেড চিকেনের সাথে ড্রেসিং বা মেরিনেটিংয়ে ব্যবহার করা হয়।
ফিশ বা সীফুডের কয়েকটি সস
ফিশ বা সীফুডের জন্য জনপ্রিয় কিছু সসের তালিকা এবং তাদের উৎপত্তি, ইতিহাস, প্রধান উপকরণ ও স্বাদের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।
১. টার্টার সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
টার্টার সস ফ্রান্সে উদ্ভূত হয়েছে। এটি মূলত মাছের সাথে পরিবেশনের জন্য তৈরি করা হয় এবং সালাদ ড্রেসিং হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত ইউরোপীয় খাবারে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
প্রধান উপকরণ:
মেয়োনিজ, কাটা পেঁয়াজ, আচার, ক্যাপারস, এবং সামান্য লেবুর রস।
স্বাদ ও গন্ধ:
টার্টার সসের স্বাদ ক্রিমি এবং টক, যা মাছের সাথে দারুণভাবে মিশে যায়। আচার ও ক্যাপারসের সংমিশ্রণে এর টক স্বাদ বৃদ্ধি পায়।
ব্যবহার:
ভাজা মাছের সাথে ডিপ হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
২. রেমুলেড সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
রেমুলেড সস ফ্রান্সে উদ্ভূত হয় এবং এটি টার্টার সসের মতো হলেও কিছুটা মশলাদার। এটি মূলত ফ্রান্সের সামুদ্রিক খাবারের সাথে ব্যবহার করা হতো।
প্রধান উপকরণ:
মেয়োনিজ, সরিষা, কাটা পেঁয়াজ, রসুন, ক্যাপারস, এবং বিভিন্ন হার্ব।
স্বাদ ও গন্ধ:
রেমুলেড সসের স্বাদ মশলাদার এবং ক্রিমি, এতে সরিষার কিছুটা ঝাঁঝালো স্বাদ থাকে।
ব্যবহার:
ভাজা বা গ্রিলড ফিশের সাথে ডিপ হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
৩. হল্যান্ডাইস সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
হল্যান্ডাইস সস ফ্রান্সে উদ্ভূত একটি প্রাচীন সস, যা একসময় শুধুমাত্র বিশেষ ডিশে ব্যবহার করা হতো। আজ এটি সমুদ্রের খাবারের সাথে বেশ জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
ডিমের কুসুম, মাখন এবং লেবুর রস।
স্বাদ ও গন্ধ:
হল্যান্ডাইস সসের স্বাদ মোলায়েম এবং ক্রিমি। এতে লেবুর টক এবং মাখনের মোলায়েমতা রয়েছে।
ব্যবহার:
সীফুড যেমন গ্রিলড ফিশ ও ঝিনুকের সাথে পরিবেশন করা হয়।
৪. ওয়েস্টার সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
ওয়েস্টার সস চীনে উদ্ভূত হয়। এটি প্রথমে একটি দুর্ঘটনায় তৈরি হয়, যখন ওয়েস্টার রান্না করতে গিয়ে একটি পুরু সস তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে সীফুডে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।
প্রধান উপকরণ:
ওয়েস্টার নির্যাস, সয়া সস, চিনি এবং গাঢ় করার জন্য কিছুটা কর্নস্টার্চ।
স্বাদ ও গন্ধ:
ওয়েস্টার সসের স্বাদ লবণাক্ত এবং কিছুটা মিষ্টি। এতে সামুদ্রিক গন্ধ থাকে যা সীফুডের সাথে ভালোভাবে মিশে যায়।
ব্যবহার:
সীফুড রান্নায় মেরিনেট হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সীফুড ডিশের উপরে ছিটিয়ে পরিবেশন করা হয়।
৫. লেমন বাটার সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
লেমন বাটার সস ফ্রান্স ও ইতালিতে জনপ্রিয়তা লাভ করে। এটি সহজেই তৈরি করা যায় এবং বিভিন্ন সীফুডের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
লেবুর রস, মাখন, রসুন এবং কিছু হার্ব।
স্বাদ ও গন্ধ:
লেমন বাটার সসের স্বাদ মোলায়েম এবং টক। এতে লেবুর টক এবং মাখনের মোলায়েমতা একত্রিত হয়।
ব্যবহার:
গ্রিলড ফিশ বা ঝিনুকের উপর ছিটিয়ে পরিবেশন করা হয়।
৬. সয়া গার্লিক সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
এটি পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় সস, বিশেষ করে চীন এবং কোরিয়াতে মাছ এবং সীফুডের সাথে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
সয়া সস, রসুন, চিনি, এবং সামান্য আদা।
স্বাদ ও গন্ধ:
সয়া গার্লিক সসের স্বাদ লবণাক্ত এবং কিছুটা মিষ্টি। এতে রসুনের তীব্র গন্ধ থাকে।
ব্যবহার:
সীফুড এবং ফিশ গ্রিলের উপরে বা মেরিনেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৭. মারিনারা সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
মারিনারা সস ইতালির উপকূলবর্তী অঞ্চলে উদ্ভূত হয় এবং এটি মূলত টমেটো বেসড সস হিসেবে জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
টমেটো, রসুন, অলিভ অয়েল, এবং বিভিন্ন ইতালিয়ান হার্ব।
স্বাদ ও গন্ধ:
মারিনারা সসের স্বাদ টক এবং কিছুটা মিষ্টি। এতে টমেটোর মিষ্টি এবং রসুনের ঝাঁঝালো স্বাদ রয়েছে।
ব্যবহার:
সীফুড পাস্তা এবং গ্রিলড ফিশের সাথে পরিবেশন করা হয়।
৮. পনজু সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
পনজু সস জাপানে উৎপন্ন হয়। এটি জাপানি রান্নার জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী সস, যা সীফুড ডিশে ব্যবহার করা হয়।
প্রধান উপকরণ:
সয়া সস, লেবুর রস বা ভিনেগার, এবং দাশি (জাপানি ফিশ স্টক)।
স্বাদ ও গন্ধ:
পনজু সসের স্বাদ টক ও লবণাক্ত। এতে লেবুর টক এবং সয়া সসের লবণাক্ততা মিশ্রিত থাকে।
ব্যবহার:
সুশি, শাশিমি এবং সীফুড ডিশের সাথে ব্যবহৃত হয়।
৯. মিসো সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
মিসো সস জাপানে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মিসো পেস্ট দিয়ে তৈরি করা হয় এবং বিভিন্ন জাপানি খাবারের সাথে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
মিসো পেস্ট, সয়া সস, চিনি এবং সামান্য ভিনেগার।
স্বাদ ও গন্ধ:
মিসো সসের স্বাদ লবণাক্ত এবং মিষ্টি, মিসো পেস্টের কারণে এতে একটি মাটির গন্ধ থাকে।
ব্যবহার:
সীফুড এবং গ্রিলড ফিশে মেরিনেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১০. পেস্টো সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
পেস্টো সস ইতালিতে উদ্ভূত। এটি মূলত বাসিল, পারমেসান চিজ এবং অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী সস।
প্রধান উপকরণ:
তাজা বাসিল পাতা, পারমেসান চিজ, রসুন, পাইন নাটস, এবং অলিভ অয়েল।
স্বাদ ও গন্ধ:
পেস্টো সসের স্বাদ ঘন, ক্রিমি এবং তাজা হার্বসের সুবাসযুক্ত।
ব্যবহার:
গ্রিলড ফিশ, সীফুড পাস্তা এবং স্যালাডে ড্রেসিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১১. রেড চিলি সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
রেড চিলি সস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের ঐতিহ্যবাহী সস, যা ভাজা এবং গ্রিলড সীফুডের সাথে বেশ ভালোভাবে মানিয়ে যায়।
প্রধান উপকরণ:
লাল মরিচ, রসুন, ভিনেগার, চিনি এবং সামান্য লবণ।
স্বাদ ও গন্ধ:
রেড চিলি সস ঝাল এবং কিছুটা টক, যা সীফুডের সাথে খেতে বেশ ভালো লাগে।
ব্যবহার:
ভাজা বা গ্রিলড মাছ ও সীফুডের সাথে ডিপ হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
১২. ক্রিমি ওয়াসাবি সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
ওয়াসাবি সস জাপানে জনপ্রিয়। এটি মূলত সুশি এবং অন্যান্য জাপানি সীফুড ডিশের সাথে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
ওয়াসাবি পেস্ট, মেয়োনিজ, ক্রিম এবং কিছু লেবুর রস।
স্বাদ ও গন্ধ:
ক্রিমি ওয়াসাবি সস ঝাঁঝালো, তাজা এবং ক্রিমি স্বাদযুক্ত। ওয়াসাবির তীব্র স্বাদ এটিকে বিশেষ করে তোলে।
ব্যবহার:
সুশি এবং অন্যান্য সীফুডের সাথে ডিপ হিসেবে খাওয়া হয়।
১৩. চিমিচুরি সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
চিমিচুরি সস আর্জেন্টিনায় উদ্ভূত। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী সস, যা মূলত মাংসের সাথে পরিবেশন করা হতো, তবে সীফুডেও এটি বেশ জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
পার্সলে, রসুন, ভিনেগার, অলিভ অয়েল, এবং লাল মরিচ।
স্বাদ ও গন্ধ:
চিমিচুরি সসের স্বাদ টক এবং কিছুটা মশলাদার, পার্সলে এবং রসুনের কারণে এটি সতেজ গন্ধযুক্ত।
ব্যবহার:
গ্রিলড বা রোস্টেড সীফুডের উপর ছিটিয়ে পরিবেশন করা হয়।
১৪. গার্লিক বাটার সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
এই সসটি মূলত ইউরোপে জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ফরাসি ও ইতালিয়ান রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এটি সাধারণ উপকরণে তৈরি হলেও সীফুডের স্বাদকে দারুণভাবে বাড়িয়ে তোলে।
প্রধান উপকরণ:
মাখন, রসুন, পার্সলে, এবং লেবুর রস।
স্বাদ ও গন্ধ:
গার্লিক বাটার সসের স্বাদ মোলায়েম এবং রসুনের গন্ধযুক্ত, যা সীফুডের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে যায়।
ব্যবহার:
গ্রিলড সীফুড, যেমন স্ক্যাম্পি, চিংড়ি এবং অন্যান্য মাছের উপরে ব্যবহার করা হয়।
১৫. আভোকাডো ক্রিম সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
এই সসটি মূলত মেক্সিকান রান্না থেকে উদ্ভূত। আভোকাডোর ব্যবহার মেক্সিকোতে খুবই প্রচলিত এবং এটি বিভিন্ন সীফুড ডিশের সাথে মেশানো হয়।
প্রধান উপকরণ:
আভোকাডো, মেয়োনিজ, লেবুর রস, এবং সামান্য ধনেপাতা।
স্বাদ ও গন্ধ:
আভোকাডো ক্রিম সসের স্বাদ মোলায়েম, ক্রিমি এবং তাজা। আভোকাডোর মোলায়েমতা এবং লেবুর টক স্বাদ এটিকে বিশেষ করে তোলে।
ব্যবহার:
টাকো, সীফুড সালাদ এবং ফ্রাইড ফিশের সাথে ডিপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৬. সরিষা ডিল সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
এই সসটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় জনপ্রিয়। সরিষা এবং ডিল মেশানো এই সসটি ঐতিহ্যবাহী সীফুড এবং সালমনের সাথে ব্যবহৃত হয়।
প্রধান উপকরণ:
ডিজন সরিষা, ডিল, মধু, লেবুর রস, এবং সামান্য অলিভ অয়েল।
স্বাদ ও গন্ধ:
সরিষা ডিল সস মিষ্টি ও ঝাঁঝালো এবং এতে তাজা ডিলের সুবাস থাকে।
ব্যবহার:
স্মোকড সালমন এবং অন্যান্য গ্রিলড সীফুডের সাথে পরিবেশন করা হয়।
১৭. স্যাফরন ক্রিম সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
স্যাফরন ক্রিম সস মূলত স্পেনের পায়েল্লা ডিশ থেকে উদ্ভূত। এটি বিশেষত স্যাফরন ব্যবহারে ঐতিহ্যবাহী এবং স্পেনিশ সীফুডের সাথে জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
স্যাফরন, ক্রিম, মাখন, এবং লেবুর রস।
স্বাদ ও গন্ধ:
এই সসের স্বাদ মোলায়েম এবং স্যাফরনের সুবাসযুক্ত। এতে হালকা ক্রিমি গন্ধ থাকে।
ব্যবহার:
পায়েল্লা এবং অন্যান্য সীফুড ডিশে ব্যবহার করা হয়।
১৮. স্পাইসি ম্যাঙ্গো সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে উদ্ভূত এই সসটি ফলের মিষ্টি স্বাদের সাথে মরিচের ঝাল যুক্ত করে তৈরি করা হয়। এটি সীফুডের সাথে অনেক জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
পাকা ম্যাঙ্গো, চিলি, লেবুর রস, চিনি এবং সামান্য রসুন।
স্বাদ ও গন্ধ:
স্পাইসি ম্যাঙ্গো সসের স্বাদ মিষ্টি এবং ঝাল, এতে ম্যাঙ্গোর মিষ্টি গন্ধ এবং মরিচের ঝাল একসাথে মেশে।
ব্যবহার:
ভাজা বা গ্রিলড সীফুডে ডিপ বা ড্রেসিং হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
১৯. তেরিয়াকি সস
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
তেরিয়াকি সস জাপানের জনপ্রিয় সস, যা সীফুড এবং গ্রিলড ডিশে ব্যবহৃত হয়। এটি জাপানী তেরিয়াকি রান্না পদ্ধতির একটি অংশ।
প্রধান উপকরণ:
সয়া সস, সেক (জাপানি মদ), চিনি, এবং আদা।
স্বাদ ও গন্ধ:
তেরিয়াকি সস মিষ্টি এবং লবণাক্ত স্বাদের মিশ্রণ, যা সীফুডের সাথে দারুণ মানিয়ে যায়।
ব্যবহার:
গ্রিলড ফিশ, চিংড়ি এবং অন্যান্য সীফুড ডিশে ব্যবহার করা হয়।
২০. নিম্যান সস (Beurre Blanc)
উৎপত্তি ও ইতিহাস:
ফ্রান্সে উদ্ভূত এই সসটি একটি ঐতিহ্যবাহী ফরাসি সস যা সীফুডের সাথে বেশ জনপ্রিয়।
প্রধান উপকরণ:
সাদা ওয়াইন, মাখন, শ্যালট (এক ধরনের পেঁয়াজ), এবং ভিনেগার।
স্বাদ ও গন্ধ:
বিউর ব্ল্যাঙ্ক সস মোলায়েম, ক্রিমি এবং সামান্য টক স্বাদযুক্ত। এতে ওয়াইনের সুবাস থাকে।
ব্যবহার:
সীফুড যেমন গ্রিলড ফিশ এবং ঝিনুকের সাথে পরিবেশন করা হয়।
এই সসগুলোর বৈচিত্র্য এবং ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ সমুদ্রের খাবার এবং মাছের সাথে দারুণভাবে মিশে যায় এবং খাবারের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে তোলে।