রান্নায় তেল বা চর্বি (ফ্যাট) গুরুত্ব ও ব্যবহারের পদ্ধতি | Fat or Oil for Cooking & how to Use Fat


তেল বা চর্বি (ফ্যাট) রান্নার জন্য কি?

তেল বা চর্বি (ফ্যাট) হলো এক ধরনের লিপিড, যা রান্না করার সময় খাদ্যে তাপ প্রদান করে এবং তার স্বাদ ও টেক্সচারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। তেল বা চর্বি সাধারণত উদ্ভিদ ও প্রাণীজ উৎস থেকে আসতে পারে, যেমন:

  • তেল: সয়া তেল, সূর্যমুখী তেল, অলিভ অয়েল, কর্ন তেল, নারকেল তেল, পাম তেল, পিনাট তেল ইত্যাদি।
  • চর্বি: মাখন, ঘি, সরিষার তেল, প্যাকিং তেল, পশুর মাংসের চর্বি ইত্যাদি।

রান্নার সময় তেল বা চর্বি ব্যবহার করার ফলে খাদ্যের মধ্যে সুস্বাদু গন্ধ, মচমচে টেক্সচার এবং ভাল রঙ আসে। তেল রান্নার প্রক্রিয়া সহজ করে তোলে এবং কিছু খাবারের স্বাদ উন্নত করে।

রান্নায় তেল বা চর্বির গুরুত্ব

রান্নায় তেল বা চর্বি ব্যবহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  1. তাপ স্থানান্তর: তেল বা চর্বি রান্নার সময় তাপ সরবরাহ করে, যা খাবারকে তাড়াতাড়ি রান্না করতে সহায়ক। এটি খাদ্যের বাইরের অংশকে সোনালী এবং মচমচে করে তোলে।

  2. স্বাদ ও গন্ধ: তেল বা চর্বি খাবারের স্বাদ এবং গন্ধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তেল এবং চর্বি খাবারে মসলা ও অন্যান্য উপাদান শোষণ করে এবং সুগন্ধি এবং স্বাদে উন্নতি ঘটায়।

  3. টেক্সচার পরিবর্তন: ফ্যাট রান্নার সময় খাদ্যের বাইরের অংশকে মচমচে ও সোনালী করে তোলে। এটি খাদ্যকে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় করে তোলে, বিশেষ করে ফ্রাইড বা গ্রিলড খাবারে।

  4. ক্যালোরি বৃদ্ধি: ফ্যাট রান্নার মাধ্যমে খাদ্যে ক্যালোরি যোগ হয়, যা শরীরের জন্য শক্তির উৎস হতে পারে।

  5. পুষ্টির শোষণ: কিছু ভিটামিন, যেমন ভিটামিন A, D, E এবং K, ফ্যাটের মাধ্যমে শরীরে শোষিত হয়। তাই রান্নায় তেল বা চর্বি ব্যবহারে এসব ভিটামিন শোষণ বৃদ্ধি পায়।

রান্নায় তেল বা চর্বির উপকারিতা

  1. শক্তি প্রদান: তেল বা চর্বি উচ্চ ক্যালোরি প্রদান করে, যা শরীরের শক্তির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। এটা বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রম বা দীর্ঘ সময়ের জন্য শক্তি প্রয়োজন হলে উপকারী।

  2. স্বাস্থ্যকর চর্বি: কিছু তেল যেমন অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সরবরাহ করে, যা হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

  3. ভিটামিন শোষণ: তেল বা চর্বি শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিনের শোষণ বাড়ায়, বিশেষ করে ভিটামিন A, D, E এবং K এর শোষণ। এই ভিটামিনগুলো তেলে দ্রবীভূত হয় এবং শরীরের জন্য উপকারী।

  4. ফ্লেভার বৃদ্ধি: তেল বা চর্বি রান্নায় ব্যবহৃত হলে খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বৃদ্ধি পায়। তেল মশলা ও অন্যান্য উপাদান শোষণ করে তাদের সঠিকভাবে খাদ্যে ছড়িয়ে দেয়।

  5. অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য: কিছু তেলে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য থাকে, যেমন অলিভ অয়েল যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রান্নায় তেল বা চর্বি ব্যবহারের পদ্ধতি

রান্নায় তেল বা চর্বি ব্যবহারের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে, যেমন:

  1. প্যান ফ্রাইং (Pan Frying):

    • তেল গরম করে খাদ্যটি প্যানের মধ্যে রেখে সেঁকে রান্না করা হয়। তেল কম পরিমাণে ব্যবহার করা হয়। যেমন: প্যান ফ্রাইড মাংস বা মাছ।
  2. ডিপ ফ্রাইং (Deep Frying):

    • তেল পুরোপুরি গরম করে খাদ্যটি সম্পূর্ণরূপে তেলের মধ্যে ডুবিয়ে রান্না করা হয়। এই পদ্ধতিতে তেল প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার হয় এবং এটি খাবারের বাইরের অংশকে মচমচে করে তোলে। যেমন: ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ, ফ্রাইড চিকেন।
  3. সটেইং (Sautéing):

    • কম তেলে বা মাখনে খাদ্য দ্রুত সেঁকে রান্না করা হয়। এটি সাধারণত উচ্চ তাপে করা হয়। যেমন: সটেইড মাশরুম বা সটেইড শাকসবজি।
  4. স্টির-ফ্রাইং (Stir-Frying):

    • উচ্চ তাপে তেলে খাদ্য দ্রুত রান্না করা হয়, এবং খাদ্যটি অনেক বার নাড়ানো হয় যাতে এটি তেল সমানভাবে শোষণ করতে পারে। এই পদ্ধতি সাধারণত একটি উইক প্যান (Wok) ব্যবহার করে করা হয়। যেমন: স্টির-ফ্রাইড নুডলস বা স্টির-ফ্রাইড চিকেন।
  5. বেকিং বা রোস্টিং (Baking or Roasting):

    • কিছু খাবারে তেল মাখিয়ে তারপর ওভেনে রান্না করা হয়। এই পদ্ধতিতে তেল খাদ্যের বাইরের অংশকে সোনালী এবং ক্রিসপি করে তোলে। যেমন: রোস্টেড মাংস বা রোস্টেড পটেটো।

তেল বা চর্বি ব্যবহারের সময় সতর্কতা

  1. অতিরিক্ত তেল: অতিরিক্ত তেল বা চর্বি ব্যবহার করলে তা স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ হতে পারে, বিশেষ করে হৃদরোগ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের জন্য। তাই রান্নায় সঠিক পরিমাণ তেল ব্যবহার করা উচিত।

  2. তেলের পুনরায় ব্যবহার: বারবার তেল ব্যবহার করলে তা ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত তেল বা পুরানো তেলে রান্না করা খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

  3. তেলের গুণমান: রান্নায় ভাল মানের তেল ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। উঁচু মানের তেল যেমন অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল বেশি স্বাস্থ্যকর এবং উপকারী।


রান্নায় ব্যবহৃত তেল বা চর্বি অনেক ধরনের এবং এগুলোর প্রতিটির আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে। কিছু তেল উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য উপযুক্ত, আবার কিছু তেল হালকা তাপমাত্রায় রান্না করা যায়। তেলের উপযুক্ত ব্যবহার রান্নার ধরনের উপর নির্ভর করে। 

নিচে বিভিন্ন ধরনের তেল এবং তাদের উপযুক্ত রান্নার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

১. অলিভ অয়েল (Olive Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • অলিভ অয়েল একটি স্বাস্থ্যকর তেল যা প্রধানত মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (MUFA) দিয়ে তৈরি। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য নিয়ে থাকে।
  • এটি স্বাদে হালকা এবং সুষম।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • সালাদ ড্রেসিং: এটি সালাদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় তেল কারণ এর স্বাদ খুবই মৃদু এবং স্বাদ বৃদ্ধির জন্য আদর্শ।
  • সটেইং (Sautéing): হালকা তাপমাত্রায় রান্না করার জন্য এটি আদর্শ। গার্লিক বা মাশরুম সটেইড করার জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • গ্রিলিং: গ্রিল করা খাবারের জন্য অলিভ অয়েল উপযুক্ত, কারণ এটি খাবারের বাইরের অংশকে সোনালী এবং মসৃণ করতে সাহায্য করে।
  • লো টেম্পারেচার কুকিং: অলিভ অয়েল সাধারণত কম তাপমাত্রায় রান্নার জন্য ভালো।

ব্যবহার করবেন না:

  • ডিপ ফ্রাইং: উচ্চ তাপমাত্রায় তেলে রান্না করলে অলিভ অয়েল দ্রুত পুড়ে যেতে পারে এবং এর স্বাদ নষ্ট হতে পারে।

২. ক্যানোলা অয়েল (Canola Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • ক্যানোলা অয়েল একটি সস্তা তেল যা রিফাইন্ড এবং হালকা স্বাদযুক্ত। এটি সাধারণত পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (PUFA) দ্বারা গঠিত।
  • এই তেল উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য উপযুক্ত।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • ডিপ ফ্রাইং: এটি উচ্চ তাপমাত্রায় তেল গরম করার জন্য ভালো। তাই এটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ বা চিকেন উইংস ডিপ ফ্রাই করার জন্য আদর্শ।
  • বেকিং: ক্যানোলা অয়েল বেকিং-এর জন্য ভাল কারণ এর তেল বেশি গা dark ় নয় এবং এটি কেক বা ব্রেডের জন্য উপযুক্ত।
  • স্টির-ফ্রাইং: ক্যানোলা অয়েল উচ্চ তাপমাত্রায় তাপ স্থানান্তর করতে সাহায্য করে, তাই এটি স্টির-ফ্রাই রান্নার জন্য খুবই উপযুক্ত।

৩. নারকেল তেল (Coconut Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • নারকেল তেল প্রাকৃতিকভাবে স্যাচুরেটেড ফ্যাট (Saturated fat) ধারণ করে, যা খাবারে সমৃদ্ধ এবং ক্রিমি টেক্সচার আনে।
  • এটি রান্নার জন্য একটি শক্তিশালী তেল, যা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল বৈশিষ্ট্যও রাখে।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • বেকিং: নারকেল তেল বেকিংয়ে খুব ভালো কাজ করে, বিশেষ করে কেক, ব্রেড, এবং পেস্ট্রির ক্ষেত্রে।
  • ক্যারিবিয়ান এবং এশিয়ান রান্না: নারকেল তেল ব্যবহার করা হয় বিশেষ করে ভারতীয়, থাই, মালয়েশিয়ান এবং ফিলিপিনো রান্নায়।
  • ডিপ ফ্রাইং: নারকেল তেল উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করতে সাহায্য করে এবং খাবারকে মচমচে ও সোনালী করে তোলে।

ব্যবহার করবেন না:

  • সালাদ ড্রেসিং: নারকেল তেলের স্বাদ অনেকটা শক্ত এবং মিষ্টি হতে পারে, যা সালাদে ব্যবহার করার জন্য উপযুক্ত নয়।

৪. সয়াবিন অয়েল (Soybean Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • সয়াবিন অয়েল একটি উদ্ভিজ্জ তেল যা সাধারণত রিফাইন্ড এবং সস্তা হয়।
  • এটি পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (PUFA) সমৃদ্ধ এবং তুলনামূলকভাবে সুস্থ।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • স্টির-ফ্রাইং: সয়াবিন অয়েল উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য ভালো এবং এটি স্টির-ফ্রাই বা দ্রুত রান্নার জন্য উপযুক্ত।
  • ডিপ ফ্রাইং: এটি ডিপ ফ্রাইিংয়ের জন্য খুবই ভালো। যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা চিকেন উইংস ডিপ ফ্রাই করার জন্য।

৫. পাম অয়েল (Palm Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • পাম অয়েল স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ এবং এটি সাধারণত রান্নায় ব্যবহৃত হয় বিশেষত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়।
  • এটি উচ্চ তাপমাত্রায় ভালোভাবে কাজ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল থাকে।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • ডিপ ফ্রাইং: পাম তেল ডিপ ফ্রাইংয়ের জন্য একটি ভাল বিকল্প, কারণ এটি উচ্চ তাপমাত্রায় স্থিতিশীল।
  • বেকিং: পাম তেল বেকিংয়ের জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষত কেক এবং মাফিনের জন্য।

৬. পিনাট অয়েল (Peanut Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • পিনাট অয়েল খুব হালকা এবং খাস্তা, সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করার জন্য এটি ভালো। এতে হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট কম থাকে এবং এটি খাদ্যে তেল স্বাদ যুক্ত করে।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • স্টির-ফ্রাইং: পিনাট অয়েল স্টির-ফ্রাইংয়ের জন্য একেবারে উপযুক্ত, বিশেষ করে এশিয়ান রান্নায় ব্যবহৃত হয়।
  • ডিপ ফ্রাইং: পিনাট অয়েল ডিপ ফ্রাইিংয়ের জন্য আদর্শ, এটি উচ্চ তাপমাত্রায় অত্যন্ত স্থিতিশীল।

৭. মাখন (Butter)

বৈশিষ্ট্য:

  • মাখন স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ এবং এটি রান্নায় খুব সুস্বাদু এবং মোলায়েম টেক্সচার প্রদান করে।
  • মাখন খাবারের গন্ধ এবং টেক্সচার উন্নত করে।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • বেকিং: মাখন বেকিংয়ে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে কেক, ব্রেড এবং কুকি তৈরির জন্য।
  • সটেইং (Sautéing): মাখন হালকা তাপমাত্রায় সটেইংয়ের জন্য ভালো, যেমন সটেইড শাকসবজি বা মাশরুম।

ব্যবহার করবেন না:

  • উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না: মাখন উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য উপযুক্ত নয় কারণ এটি খুব দ্রুত পুড়ে যায় এবং এর গন্ধ নষ্ট হয়।

৮. ঘি (Ghee)

বৈশিষ্ট্য:

  • ঘি হলো clarified butter, যা মূলত মাখন থেকে জল এবং দুধের উপাদানগুলি ফেলে প্রস্তুত করা হয়।
  • এটি স্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ, এবং এটি ভারতের রান্নায় গুরুত্বপূর্ণ।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • ইন্ডিয়ান রান্না: ঘি বিশেষভাবে ভারতীয় রান্নার জন্য উপযুক্ত, যেমন দাল, সান্দেস, বিরিয়ানি এবং রুটির জন্য।
  • বেকিং: ঘি বেকিংয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে ডেজার্টের জন্য।

৯. সারস (Sesame Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • সাসেমি তেল সাধারণত গা dark ় এবং খুবই গা rich ় স্বাদের হয়, যা এশিয়ান রান্নায় জনপ্রিয়। এটি সুস্থ মোনোআনস্যাচুরেটেড এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • স্টির-ফ্রাইং: সাসেমি তেল উচ্চ তাপে রান্নার জন্য উপযুক্ত, বিশেষ করে চাইনিজ বা কোরিয়ান রান্নায়।
  • সালাদ ড্রেসিং: সাসেমি তেলকে সালাদের জন্য ড্রেসিং হিসেবে ব্যবহার করা যায়, কারণ এর স্বাদ অত্যন্ত মশলাদার ও গা rich ় হয়।

ব্যবহার করবেন না:

  • ডিপ ফ্রাইং: এটি উচ্চ তাপমাত্রায় তেল গরম করার জন্য আদর্শ নয়, কারণ এর স্বাদ খুবই শক্ত এবং কিছু সময়ে তেল পুড়ে যেতে পারে।

১০. আলমন্ড অয়েল (Almond Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • আলমন্ড তেল একটি হালকা তেল যা ভিটামিন E এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এটি সাধারণত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (মনোআনস্যাচুরেটেড) ধারণ করে।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • সালাদ ড্রেসিং: আলমন্ড তেল সালাদের জন্য উপযুক্ত, কারণ এটি হালকা এবং সুগন্ধি।
  • বেকিং: এটি বেকিংয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে কেক এবং ডেজার্টে।

ব্যবহার করবেন না:

  • উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না: আলমন্ড তেল উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করার জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এটি খুব দ্রুত পুড়ে যায়।

১১. grapeseed Oil (Angur Beeja Tel)

বৈশিষ্ট্য:

  • গ্রেপসিড তেল একটি হালকা এবং নিরপেক্ষ স্বাদের তেল, যা উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য উপযুক্ত। এটি পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট দ্বারা গঠিত।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • ডিপ ফ্রাইং: গ্রেপসিড তেল ডিপ ফ্রাইংয়ের জন্য খুবই উপযুক্ত, কারণ এটি তাপ সহ্য করতে পারে এবং খাদ্যকে মচমচে করে তোলে।
  • স্টির-ফ্রাইং: এটি দ্রুত রান্নার জন্য এবং উচ্চ তাপমাত্রায় স্টির-ফ্রাই করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • বেকিং: গরুর মাংস বা চিকেনের জন্য এটি উপযুক্ত।

ব্যবহার করবেন না:

  • সালাদ ড্রেসিং: এর স্বাদ তুলনামূলকভাবে মৃদু এবং এটি সাসেমি বা অলিভ অয়েলের মতো স্বাদ বৃদ্ধি করতে পারে না।

১২. মুস্টার্ড অয়েল (Mustard Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • মুস্টার্ড তেল একটি তীব্র, মসলাদার স্বাদযুক্ত তেল যা ভারতীয় এবং দক্ষিণ এশিয়ান রান্নায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি সাধারণত স্যাচুরেটেড এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • ইন্ডিয়ান রান্না: মুস্টার্ড তেল ভারতীয় রান্নায় খুবই জনপ্রিয়, বিশেষ করে মাছ বা সবজি রান্নায়।
  • পিকল তৈরি: মুস্টার্ড তেল সাধারণত পিকল তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি খাবারের স্বাদ মজবুত করে।

ব্যবহার করবেন না:

  • সালাদ ড্রেসিং: মুস্টার্ড তেল খুব তীব্র স্বাদযুক্ত এবং এটি সালাদ ড্রেসিংয়ে উপযুক্ত নয়।

১৩. আ্যাভোকাডো অয়েল (Avocado Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • আ্যাভোকাডো তেল একটি হালকা স্বাদযুক্ত তেল যা মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ। এটি স্বাস্থ্যকর এবং এতে ভিটামিন E এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • স্টির-ফ্রাইং: এটি উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য আদর্শ, বিশেষত স্টির-ফ্রাই বা সটেইং করার জন্য।
  • সালাদ ড্রেসিং: আ্যাভোকাডো তেল সালাদের জন্য উপযুক্ত কারণ এটি মৃদু এবং স্বাস্থ্যকর।

ব্যবহার করবেন না:

  • ডিপ ফ্রাইং: এটি ডিপ ফ্রাইংয়ের জন্য খুবই শক্তিশালী নয়, কারণ এটি তাপ সহ্য করতে পারে না এবং স্বাদ হারাতে পারে।

১৪. ফ্ল্যাক্সসিড অয়েল (Flaxseed Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • ফ্ল্যাক্সসিড তেল একটি বিশেষ ধরনের তেল, যা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এটি স্বাস্থ্যকর এবং হালকা স্বাদযুক্ত।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • সালাদ ড্রেসিং: ফ্ল্যাক্সসিড তেল সালাদ ড্রেসিংয়ে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি স্বাস্থ্যকর এবং সুগন্ধি।
  • স্মুদি: স্মুদি বা জুসের সাথে এটি যোগ করা যায়।

ব্যবহার করবেন না:

  • উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না: ফ্ল্যাক্সসিড তেল উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা যাবে না, কারণ এটি তাপের কারণে ভেঙে যায় এবং তার গুণমান নষ্ট হয়।

১৫. কুমার্কেল তেল (Hemp Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • কুমার্কেল তেল একটি স্বাস্থ্যকর তেল যা ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এটি সাধারণত হালকা এবং নিরপেক্ষ স্বাদের।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • সালাদ ড্রেসিং: কুমার্কেল তেল খুব ভালো সালাদ ড্রেসিং তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
  • স্মুদি: এটি স্মুদি বা জুসের মধ্যে যোগ করা যেতে পারে, যা তা আরও পুষ্টিকর করে তোলে।

ব্যবহার করবেন না:

  • উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না: এটি উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করার জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এটি তাপের কারণে তার পুষ্টিগুণ হারিয়ে ফেলতে পারে।

১৬. লিনসিড অয়েল (Linseed Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • লিনসিড তেল, যা ফ্ল্যাক্সসিড তেলের মতোই একটি উচ্চ পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ তেল। এটি স্বাস্থ্যকর এবং ঠান্ডা রান্নার জন্য আদর্শ।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • সালাদ ড্রেসিং: লিনসিড তেলকে সালাদে ব্যবহার করা যায়, কারণ এটি হালকা এবং সুস্বাদু।
  • স্প্রেড: রুটি বা স্যান্ডউইচে এটি স্প্রেড হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্যবহার করবেন না:

  • উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না: লিনসিড তেল উচ্চ তাপমাত্রায় রান্নার জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এটি তাপে দ্রুত ভেঙে যেতে পারে।

১৭. কোকোনাট পাম তেল (Coconut Palm Oil)

বৈশিষ্ট্য:

  • এটি একটি প্রাকৃতিক তেল যা পাম গাছ থেকে তৈরি হয় এবং এটি স্যাচুরেটেড ফ্যাটে সমৃদ্ধ।

কোন রান্নায় ব্যবহার করবেন:

  • মালয়েশিয়ান বা থাই রান্না: বিশেষ করে থাই এবং মালয়েশিয়ান রান্নায় কোকোনাট পাম তেল ব্যবহার করা হয়।
  • ডিপ ফ্রাইং: এটি ডিপ ফ্রাইংয়ের জন্য উপযুক্ত, কারণ এটি উচ্চ তাপমাত্রায় স্থিতিশীল।

ব্যবহার করবেন না:

  • সালাদ ড্রেসিং: এটি সালাদের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এটি একটি শক্তিশালী স্বাদ প্রদান করে যা সালাদে ভাল মানায় না।

এভাবে আপনি বিভিন্ন তেল বা চর্বির প্রকার এবং তাদের উপযুক্ত রান্না সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেতে পারেন। তেল নির্বাচন করার সময় তার স্বাস্থ্যগুণ এবং রান্নার পদ্ধতি বুঝে সঠিক তেল ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

Chef Jahed

https://web.facebook.com/ChefJahed.bd

Post a Comment

Previous Post Next Post